আহা জীবন, আহারে জীবন!

ঝুপ করে পর্দা পড়া অসমাপ্ত ছাত্রজীবন! মাস দুয়েকের মধ্যে সব শেষ হবে ভাবতে থাকা কিছু মানুষের কাছে (শুধু আমি বললে স্বার্থপরতা উঁকি দিতে পারে) হঠাৎ করে তিন সপ্তাহের লকডাউন তিন মাস হল, দেন অ্যান্ড অন অ্যান্ড অন..

বহু মানুষের জন্যে চরম সর্বনাশ বয়ে আনলেও আমার জন্যে একভাবে ভাবলে এই লকডাউন পর্বটা বেশ আশীর্বাদ ছিল বারেবারে মনে হয়েছে। চুটিয়ে কাজ করেছি, ভুল-ঠিক যাহোক, করার চেষ্টা করেছি, শেখার চেষ্টা করেছি। আজও করছি। নিজেকে নতুন করে খোঁজার মোক্ষম সময় ছিল বলা যায়।

যাহোক সেসব চলতে থাকবে, এখন এত ভণিতার ব্যাপারে এট্টু খোলসা করি। আজ সারাদিন অমনভাবে হাওয়া বইছিল। ল্যাপটপ আর বই নিয়ে বদ্ধ ঘরে থাকা আমি সন্ধ্যেরাতে খেয়াল করি সেটা, তাও যখন সে হাওয়া জানলায় কড়া নাড়লে। আজকাল, সো কলড্ বিয়িং সাকসেস*ফুল* আমার আর ওসব “কাব্যিটা ঠিক আসেনা”! কিন্তু, স্মৃতি যে বরাবর বেইমান, রাত বাড়তেই শীতের আমেজে বৃষ্টির নাচন। তবে এবার আর খিড়কি নয়, ভাঙল স্মৃতির সিংহদুয়ার। হুড়মুর করে এসে পড়ল, বিদ্যা ভবন, ক্লাসরুম, প্রিয় ব্যালকনি আর আড্ডার স্মোকিং জোন।

“কোপাই না খোয়াই?
প্রান্তিক চল!”

শ্যামবাটি মোড়ে পৌঁছে চলন্ত সাইকেলের সে কথোপকথন আজ শুধুই, আহা জীবন! আহারে জীবন!

আর আমি?
আপাতত, বৃষ্টি, ঠান্ডা হাওয়া, স্মৃতিমেদুর ঝাপসা আলো আর,

যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে…

Leave a comment