হম্ কেয়া করে

দুটো গান, সময়ের ব্যবধান ছয় দশকের, অথচ শুনতে বসলে নিমেষে শতাব্দীর সীমারেখা মুছে দেয়।

ষাটের দশকে গীতিকার সাহির লুধিয়ানভি লিখছেন,

হমে তুম বিন কোয়ি যাচতা নেহি

হম্ কেয়া করে

তুমহি কেহ দো অব অ্যায় জানে ওয়াফা

হম্ কেয়া করে

ইয়ে দিল তুম বিন কহি লগতা নেহি

হম্ কেয়া করে

ইবাদত বা বন্দনা বোঝাতে শব্দ দিয়ে কালচক্রকে যে নাগপাশে বেঁধেছিলেন কবি, সে বন্ধন ছিন্ন করা আজও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। হৃদয়ের গহীন কোণের আর্ত চিৎকার যেন মুক্তো হয়ে প্রতিটা শব্দবন্ধে পরিণত হয়েছে।

এসবের বহুকাল পরে ‘তাচ্ছিল্যের জেন জি যুগে’ দাঁড়িয়ে গীতিকার মুদাস্সার আজিজ লিখছেন,

দিল কে আগে ইয়ে আফত্ বড়ি হ্যাঁয়

খোয়াহিশে ফির ভি জিদ্ আঁড়ি হ্যাঁয়

হমসে মায়ুস হোগা জমানা

পড়্ জমানে কি কিসকো পড়ি হ্যাঁয়

যেন সময়ের নদী পেরিয়ে কোনো প্রেমিকের আর্তচিৎকার আজ আত্মগৌরবের রূপ নিয়েছে। দুনিয়াকে মধ্যমা দেখিয়ে আজ তার ইবাদত, জুনুন বা অবসেশনের আকার নিয়েছে। ভালোবাসা ও যুগের দাবি মেনেই যেন সবটা হয়েছে। কলমটা ভিন্ন হতে পারে, তবে সত্ত্বা দুটো ভীষণ ভাবে একাত্ম!

কি অদ্ভুত সমাপতন!

মোহাবিষ্ট!!

ছবিটা দেখবার আগে ‘জামানা লাগে’ গানটা গুটিকয়েক বার এদিক সেদিক রিল টিলে শুনেছিলাম নিশ্চয়ই, তবে বাকিগুলো একেবারেই নয়।

ছবিটা নিয়ে নস্টালজিয়া, অনুরাগ বসুর স্টোরিটেলিং এসব দেখতেই মূলত রূপোলী পর্দার সামনে বসা। ছবি জুড়ে হতে থাকা শত সহস্র ঘনঘটার রেশ আর অনেকটা মিশ্র অনুভূতি নিয়ে হল থেকে বেরোই। কানে ইয়ারফোন, বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যে আর ট্রেন জার্নি…

অবচেতনে অচিরেই শ্রেয়ার গলায় “লাগ রহা হ্যায় কায়দে সে ইউ মহব্বত হুয়ি হ্যায় মুঝে” কিংবা “আগর কঁহি তুমহে রুলায়া, কাঁহা মুঝে ভি চ্যায়ন আয়া, আসল ম্যায় দিল নেহি তুমহারা, খুদ হি কা হ্যাঁয় দুখায়া”

যোগ্য সঙ্গতে “তুমহারে স্যাহর কা মউসম বড়া সুহানা লাগে, ম্যায় এক সাম চুরালু আগর তুমহে বুরা না লাগে…”

একই কন্ঠে একদিকে প্রেমের অমন আকুলতা, তো অন্যদিকে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে প্রেমের ইস্তেহার “তু ইসস তরহা মুঝসে বেওয়াফাই কর, কি তেরে বাদ মুঝে কোয়ি ওয়াফা না লাগে”

কি মায়াবী, কি ভীষণ মন কেমন করা! বলিউডি প্লেব্যাকের মরু সাহারায় যেন ‘রিম ঝিম গিরে সাওয়ান’। 

ছবির ভালোলাগা মন্দলাগা, সেসব তর্ক-আলোচনা ভিডিওয় করবো নাহয়। ‘মেট্রো ইন দিনো’র অ্যালবামটা বহু, বহু দিন মনে রাখার মতন। ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’ আমাদের জেনারেশনের আবেগ, তাতে ভর করে তুলনায় গেলে সবই ফিকে লাগবে। তবে শেষ কিছুদিন লুপে শুনতে থাকা চারটে গান, ‘দিল কা কেয়া’, ‘অউর কিতনি মহব্বত কঁরু’, ‘কায়দে সে’, আর ‘জমানা লাগে’তে ভীষণ রকম বাঁধা পড়েছি। এ ঘোর যেন সত্যি-ই কাটেনা… 

অমল প্রত্যুষ

THE NIGHT IS DARKEST JUST BEFORE THE DAWN

অথবা,
“যতই বড় হোক রাত্রি কালো
জানবে ততই কাছে ভোরের আলো”

ভাষাটা যাই হোক, মর্মার্থটা একই…

ফুটবলে এমন একটা দলকে সমর্থন করি, যাদের আশৈশব শুধু হারতেই দেখেছি, কখনো কনফেডারেশন, কখনো জার্মানির কাছে ০-৪ এ পর্যদুস্ত হওয়া, আবার কখনো পরপর তিন বছর ফাইনালে হার।
টিমটা তার পরেও ফিরেছে, সদর্পে দুই বছরে তিনটে ট্রফি ঘরে তুলেছে, বিশ্বসেরার খেতাব তার মধ্যে অন্যতম।

তাই ভরসাটা ছিল, এই দলটাকে তো ০৭ আর ১১তেই ট্রফি ঘরে নিতে দেখেছি! বিশ্বসেরা দল নিয়ে তাই হয়ত অপেক্ষাটা শুধু সময়ের-ই ছিল, আজ যার অবসান হল।

একটা নিকষ কালো রাত পেরিয়ে, শেষ একটা মাস যেন রক্তাভ প্রত্যুষের কিরণ ছড়িয়েছে জীবনে। ঠিক তেমনভাবেই যেন ওই দুটো ওভার (পড়ুন অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত) এর পর বার্বাডোসের স্বপ্নময় পাচটা ওভার ভারতীয় ক্রিকেটকে নতুন দিনের সন্ধান দিয়েছে।

বহু বছর মনে থাকবে জুন ২০২৪-কে!

মনে থাকবে, মিস্টার ডিপেন্ডেবলের কবীর খান হয়ে ওঠার গল্প, মনে থাকবে ফ্র‍্যাঞ্চাইজি “ফ্যান” দের কাছে “বুউউউউ” শোনার পর কামব্যাক, জীবন-মৃত্যুর শতরঞ্জে বাজি জিতে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার গল্প, গোটা টুর্নামেন্টে “ওর এখন ছেড়ে দেওয়া উচিত” শুনে, ফাইনালে হুঙ্কার তুলে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নিয়ে যাওয়াটা, ম্যাচ শেষে মাঠে বার কয়েক চাপড়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা, ২৭ বলে ২৬ দরকার থেকে দেশকে ট্রফি জেতানোর গল্পটা, আরও কত কি…

অবসর শুভ হোক RO-KO
চক দে!

Seven Samurai; সিনেমা নয় একটি প্রতিষ্ঠান

Movie – Seven Samurai
Director – Akira Kurosawa
Cast – Toshiro Mifune, Takashi Shimura, Ishao Kimura

আমাদের খুব পরিচিত গল্প এই ছবির প্লট লাইন। একটা গ্রামের মানুষ বারংবার ডাকাতদের হানায় ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে রয়েছে, এবং কিছু সাহসী মানুষ তাদের জীবনে এসে তাদের সে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করে। ৭০-৮০ দশক থেকে ‘শোলে’ ছবির দৌলতে এই গল্প সব বলিউডে একটু আধটু উঁকি দেওয়া সকল সিনেমা প্রেমী মানুষেরই জানা। এবার তবে পিছিয়ে যাওয়া যাক আরও তিন দশক আগে, পরিচালক আকিরা কুরোসাওয়ার সাজানো একই গল্পের প্লটে। তবে সে স্বাদ সম্পূর্ণ অন্যরকম, সেখানে বন্ধুত্বের গল্প বা টিপিক্যাল বলিউডি মেলোড্রামা নেই, তবে যা আছে তাকে বাস্তবের একপ্রকার ডকুমেন্টেশনই বলা চলে। জাপানের জীবনযাত্রার তথা তার ট্র‍্যাডিশনাল আর্টকে বিশ্বের সাথে পরিচয় করানোর প্রচেষ্টা।

ছবির প্লটলাইন ভালো হয়েও অনেক ক্ষেত্রেই তার কাহিনি বিন্যাস যথাযথ না হওয়ায় তা গুড ফিল্ম থেকে গ্রেট ফিল্ম হয়ে উঠতে পারেনা। তবে এখানে রাইটিং ডিপার্টমেন্ট সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছে, ছবির চরিত্রগুলো বেশ জীবন্ত। তবে স্ক্রিনপ্লে আর একটু ছোট হলে ব্যাপারটা আরও ক্রিসপি হত।

অভিনয়ে কিকুচিও এর চরিত্রে তোশিরো মিফুনে এককথায় দুর্দান্ত ( অভিনেতার প্রথম কাজ দেখলাম আমি)। ওনার স্ক্রিন প্রেজেন্স নিয়ে কথা বলার ধৃষ্টতা আমার নেই। ভবিষ্যতে আরও কাজ দেখার ইচ্ছে আছে কুরোসাওয়া আর মিফুনে জুটির। ইটস্ আ মাস্ট ওয়াচ আই সে!!

রেনকোট, ওয়ান অফ ইটস কাইন্ড!

ভালবাসা সংজ্ঞায়িত করা বোধহয় একজন ভালো স্টোরিটেলারের পক্ষেই সম্ভব। “রেনকোট”, মুভি অফ আ লাইফটাইম! চরিত্র চিত্রণ থেকে, সংলাপের বয়ন সবেতেই নিখুঁত তুলির টান। এ যেন ফিল্ম নয়, জীবনের ক্যানভাসে সাদাকালো তুলির শেড। প্রতিটি অভিনেতা তাদের চরিত্রগুলি জীবন্ত করে তুলেছে ক্যামেরার সামনে। কাহিনীর বয়ন অনবদ্য এককথায়! সিনেমার প্রতিটি বাঁকে কাহিনীতে যে মোচড় মারা হয়েছে যা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করার মত। কখনো সো কল্ড বা প্রেডিক্টেবল মনে করার সুযোগ দেননি নির্মাতারা। ঐশ্বর্য রাই প্রতিটি সিন-এ এত সাবলীল আর এত স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে নিজেকে মেলে ধরেছেন অন দ্য ক্যামেরা,যে বোঝার উপায় ছিলনা যে সমগ্র বিষয়টি সেলুলয়েডে হচ্ছে না জীবন দিয়ে অনুভব করছি। তবে অজয় দেবগণ এর থেকে আরো একটু আশা ছিল, যা তিনি পূরণ করতে সক্ষম হননি। অন্যান্য অভিনেতাদের মধ্যে অন্নু কপুড় আর মৌলি গাঙ্গুলির স্ক্রিন প্রেজেন্স দেখবার মতো। সিনেমায় মিউজিকের ব্যবহার নিয়ে দুএক কথা না বললেই নয়। দেবজ্যোতি মিশ্র এর পরিচালনায় পুরো সিনেমার প্রধান ফিমেল ভোকালিস্ট শুভা মুদগল। সিনেমার অধিকাংশ গানই তার গলায় শুনতে পাবেন দর্শকরা। সবমিলিয়ে “রেনকোট” দেখার পর দিনের শেষে একটা কথা বলতেই হবে – “ইয়ে মুভি নেহি দেখা তো কেয়া দেখা সাহাব!!”

সাওয়ান আয়ে তুম না আয়ে, তুম বিন তরসে মোরা জিয়া…

ফি বছর ৩১ আগস্ট ফিরলেও তুমি যে ফিরে আসো না আর! প্রতিটা চলচ্চিত্রে এক একটা দৃশ্যে স্ক্রিনে না থেকেও ভীষণভাবে তোমার স্পর্শ পাই আজ এত বছর পরেও। আচ্ছা তুমি কি ফিরতি পথে সর্বত্যাগী বিনোদিনী নাকি ঝলমলে আলোয় অশ্রুসিক্ত দু’চোখ লুকোনো বিনোদিনী ? নাকি বর্ষাতি হাতে আধভেজা নীরু? যদিও জানি সবার মধ্যেই ভীষণভাবে তুমি বিরাজমান, তবুও বলোনা কার মধ্যে তোমায় আরও নতুন করে পাবো? সুখ দুঃখের নিবিড় মুহূর্তে তোমার সন্তানেরা এত বেশি করে প্রাসঙ্গিক যে বাঙালির প্রেম বা বিরহে তুমি ইলশে গুড়ি হয়ে উঠেছো। বৃষ্টিভেজা শ্রাবণ তাই নদী কিনারে বলে ওঠে – “পিয়া তোরা ক্যায়সা আভিমান..”

তারিখ : আ বেঙ্গলী ক্লাসিক

নীলা চেনেন? একধরনের পাথর, যা নাকি কোনো কোনো মানুষের কাছে আলাদিনের জিন সমান। আবার কারো কাছে তা দুঃখের বার্তা বয়ে আনে। তবে সে যাই হউক না কেন, এই নীলাকে একবার ধারণ করলে তা থেকে আপনার নিস্তার নেই। ফেলে আসা মুহূর্তেরা, যা বর্তমানে শুধুই স্মৃতি, তাও অনেকটা এমনই। চলার পথে ক্ষণিকের থমকে দাঁড়ানোয় যদি স্মৃতির ভীড়ে একটিবার তাকান তবে তা আপনাকে সম্মোহিত করতে বাধ্য। জীবনের পথ যত বেশি অতিক্রম করবেন, স্মৃতি ততই বৈচিত্র্যময় হবে। আর একবার সে ছায়াপথের গোলকধাঁধায় আপনি যদি হারান তবে রোলার কোস্টার রাইড শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপনার ছাড় নেই। এমনই বৈচিত্র্যপূর্ণ স্মৃতির টাইমলাইন ধরে আলোকবর্ষ পথ যদি হেঁটে যাওয়া যায়, তবে তা ‘তারিখ’ এর মত চলচ্চিত্রের আকার ধারণ করে। তবে অসুবিধে একটাই, সে টাইমলাইনে প্রতিটা মূহুর্ত দেখা যায়, অনুভব করা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায়না। মনে হবে আপনি যেন বিতর্কিত টাইমমেশিনের ভীষণ বাস্তব এক সওয়ারী। জীবন নামক সে টাইমলাইনে প্রবেশ করলে দেখা যায় বহমান সময়ের দূর্বার গতিকে। উপলব্ধি হয় অমরত্বের প্রত্যাশা ঠিক কতটা মিথ্যে। বোঝা যায় নির্ধারিত টাইমলাইনের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করায় ঠিক কতটা সুখ এবং তার চেয়ে বড়ো সত্য আর নেই।

‘নির্বাসিত'(২০১৪) এর পর বাংলা ছবিতে পরিচালিকা হিসেবে আবারও দেখা গেল চূর্ণী গাঙ্গুলীকে। প্রথম ছবিতে জাতীয় পুরস্কার জেতায় এবারে তার দায়িত্ব আরো অনেক বেশি। তাই এবারে তিনি তার ছবির বিষয় হিসেবে নির্বাচন করলেন একটি ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ইভেন্ট। ‘তারিখে’র থিম হল মৃত্যু, তবে তা মেলে ধরতে তথাকথিত ডার্ক শেড ব্যবহার করে ছবিটিকে ডিপ্রসিং করেননি পরিচালক। জীবনের চিরন্তন সত্য হল মৃত্যু। আমরা সেই মৃত্যুকে সবসময় অবচেতনে রেখে চলতেই ভালোবাসি। অবচেতন মনে ঠাঁই পাওয়া সে ধ্রুব সত্যকে আতসকাঁচের নীচে এনেছে ‘তারিখ’, চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে তার। তবে ছবির ফোকাস মৃত্যুতে নয়, মৃত্যুর আনুষঙ্গিক দিকগুলিতে। এক্ষেত্রে ছবির একটি সংলাপ ভীষণ প্রাসঙ্গিক – ” যারা গেল, তারা তো গেল। বাট যারা সারভাইভ করল, দ্যাট ফর মি ইজ দ্য রিয়েল স্টোরি”। সিনেমাটি দর্শককে এমন এক ধূসর দিগন্তের সন্ধান দেয় যেখানে একাকার হচ্ছে বাস্তব এবং ভার্চুয়াল জগৎ। বাস্তবে পাওয়া-হারানোর দিনপঞ্জি হয়ে ওঠে ফেসবুকের টাইমলাইন। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়াকে কারণে অকারণে দুষবার যে প্রবণতা দেখা যায় আমাদের চারপাশে সেই দৃষ্টিভঙ্গিকেও চ্যালেঞ্জ জানায় এই ছবি।

মূলত তিনটি চরিত্রের উপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে রয়েছে পুরো ছবিটি। আদর্শবাদী অনির্বাণ (শাশ্বত) পেশায় অধ্যাপক, যে রাধে সে চুলও বাঁধে গোছের চরিত্র ইরা (রাইমা) ও বাস্তববাদী রুদ্রাংশু (ঋত্বিক)। অনির্বাণের ফেসবুক প্রোফাইলের টাইমলাইনে যাত্রা করে রহস্য উন্মোচন হয় তিনটি জীবনের। এই অ্যাডভেঞ্চার রাইডে কখনো স্ট্যাটাস, কখনো আপলোডেড ইমেজ আবার কখনো বিশেষ কারো সাথে ইনবক্সে চ্যাট হয়ে ওঠে ছবিটির প্লাটফর্ম। শহুরে বুদ্ধিজীবী অনির্বাণ স্বপ্ন দেখে রক্তে ভেজা রাতের শেষে নতুন দিন দেখবার। চরিত্রটির জীবনের গানে তাই দিনবদলের সুর শোনা যায়। এক বিশেষ কারণে সে ক্রান্তি ঘটানো তার পক্ষে সম্ভবপর হয়না। তাই আন্তর্জালিক দুনিয়ায় নিজ বুদ্ধিমত্তার জানান দিয়েই ক্ষান্ত হয় সে। অনির্বাণের স্ত্রী ইরা এক বিলাসবহুল হোটেলের রিসেপসনিস্ট। রুদ্রাংশু ব্যাবসায়ী মানুষ ও অনির্বাণের বেষ্ট ফ্রেন্ডও বটে। ছবিতে এছাড়াও রয়েছে ব্যাক্তিক আবেগ, দোলাচল চিত্ত, পুরুষতান্ত্রিক ঘেরাটোপ অতিক্রম করে সাম্যের সুর প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, কমিউনিজম্ আরো অনেক কিছু।

অপেরা মুভিজ প্রযোজিত এই ছবির গল্পের আইডিয়া খুবই সময়োপযোগী। সেইসাথে উল্লেখ করতেই হয় ছবির এমন অভিনব চিত্রনাট্যের কথা। পরিচালনার ক্ষেত্রে আবারো সফল চূর্ণী গাঙ্গুলী। ছবির প্লট নির্মাণ থেকে শুরু করে চরিত্র নির্মান সবেতেই কৃতিত্বের দাবিদার পরিচালিকা। চরিত্র চিত্রণের ক্ষেত্রে অভিনেতা অভিনেত্রীদের কথা বলতে হবে এবারে। শাশ্বত চ্যাটার্জি যে কি উচ্চমানের চরিত্রাভিনেতা বাংলা ছবির দর্শক তার পরিচয় পেয়েছে কমলেশ্বরের ‘মেঘ ঢাকা তারা’তে। ‘তারিখে’ সেই লেগেসিই ধরে রাখলেন শুভেন্দু পুত্র। চরিত্র অনুযায়ী নিজ অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন রাইমা সেন ও ঋত্বিক চক্রবর্তী। পার্শ্বচরিত্র হিসেবে নির্ধারিত প্রতিটা ফ্রেমে যোগ্য সঙ্গত করে গিয়েছে শিশুশিল্পী অ্যাডোলিনা।

এবার আসা যাক ছবির টেকনিক্যাল পার্টগুলিতে। একটা ছবিকে গুড থেকে গ্রেট করে ছবির প্রত্যেকটি বিভাগের নিখুঁত হয়ে ওঠার চেষ্টা, বলা বাহুল্য এটাই ‘তারিখে’ সাফল্যের প্রধান কারণ। ছবির সিনেমাটোগ্রাফি এককথায় আন্তর্জাতিক মানের। হাসি-কান্না, সাফল্য-ব্যার্থতা, একাকীত্ব-ভাবাবেগ এরকম বিভিন্ন মুড অনুযায়ী নেওয়া কিছু পরিকল্পিত শট ছবিটিকে একটি নতুন ফ্লেভার এনে দেয়। এছাড়া লন্ডনের ব্যাস্ততা, রাতে নিস্তব্ধতা চিড়ে বেরোনো কফিনবন্দী দেহ বাড়ি আনার সিনটির দৃশ্যায়ন সত্যিই অনবদ্য। এগুলি ছাড়াও ছবির ক্রিসপি এডিটিং, প্রয়োজনমাফিক ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ব্যবহার ভীষন কম্প্যাক্ট লাগবে এই ধারার ছবির দর্শকের কাছে। তবে ছবিটির একটি নেতিবাচক দিকও আছে। ছবিটি আদ্যোপান্ত একটি ইনটেলেক্ট ফিল্ম, যা কিনা সমাজের এক শ্রেণীর মানুষই শুধু কানেক্ট করতে পারবেন। তবু সবদিক বিচার করলে ৫ এর নিরিখে ৪ পাবে ‘তারিখ – এ টাইমলাইন’।

আলোয় ফেরার গল্পের নাম কন্ঠ

ভাবুন আপনার জীবন সুখ সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ, যাকে এককথায় সোনার পাথরবাটি বলে আর কি! ঠিক তখনই আপনার জীবনে নেমে এল দুঃস্বপ্নের রাত। ঘনিয়ে এল নিকষ কালো অন্ধকার, যে অন্ধকারের না আছে কোনো শুরু না আছে কোনো শেষ। রঙতুলির ছোঁয়ায় পূর্ণ আপনার জীবন এক লহমায় শূন্য হল। দুঃস্বপ্নের সে রাতগুলিতে তখন – “রোজ এক স্বপ্ন দেখা, আলোতে আলোতে ঢাকা”। ধূসর সে রাতে হঠাত সন্ধান পেলেন আলোর এক উৎসের। প্রিয় মানুষগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকারকে সম্বল করে শপথ নিলেন সে দূর্গম পথ অতিক্রম করবার। ফিকে হয়ে আসা ক্যানভাসে রামনুর সাত রঙ মেশাতে ছুটে চললেন অভীষ্টের দিকে। ঠিক এমনই এক গল নিয়ে সিনেমা বানালেন শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটি। ছবির নাম ‘কন্ঠ’, গত ১০ মে মুক্তি পেল উইন্ডোজ প্রযোজিত এই ছবি।

ছবির বিষয় ক্যান্সার আক্রান্ত এক বাচিকশিল্পীর(রেডিও জকি) জীবনযুদ্ধ এবং সেই যুদ্ধে তার পরিবারের কন্ট্রিবিউশন। সেক্ষেত্রে এইরকম লার্জার দ্যান লাইফ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র একটু স্পেশাল হওয়া বোধহয় বিশেষ প্রয়োজন ছিল। তাই নিজেই সে ভূমিকা পালনে উদ্যত হলেন শিবপ্রসাদ। দেবাশিস, অর্ক, হ্যাপি সিং, লাল্টু দত্তের চরিত্রে তার অভিনয় প্রতিভার পরিচয় পেয়েছিল বাংলা ছবির দর্শক। তাই এবারে অনেকটা বড় চমক দিতে চাইলেন তিনি। বাচিকশিল্পীর চরিত্রে শুধু অভিনয়ই করলেন না, বাঁচার তাগিদ হয়ে উঠলেন বহু মৃত্যু পথযাত্রীর কাছে। আলোয় ফেরার পথ দেখালেন কতশত মানুষকে।

ছবির স্ক্রিপ্ট মোটের উপর বেশ ভাল, বিশেষত ছবির দ্বিতীয়ার্ধ বেশ জমাট লেগেছে। রেডিও প্রোগ্রাম, রেডিও স্ক্রিপ্ট, শিল্পীর বাচনভঙ্গি, ল্যারিঞ্জিয়াল ক্যান্সার সংক্রান্ত খুঁটিনাটি নিয়ে এত গভীর গবেষণা বাংলা ছবিতে বিরল। পরিচালনার ক্ষেত্রে ইচ্ছে, বেলাশেষে যে মাপকাঠি তৈরি করেছিল শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটি তাকেই ছুঁয়ে দিল কন্ঠ ছবিটি। সাউন্ড ডিজাইনিং এই ছবির অন্যতম ইউ.এস.পি। কয়েকটি দৃশ্যে শব্দের ব্যবহার বেশ নজরকাড়া। যেমন একটি দৃশ্যে অর্জুন ও তার স্ত্রী পৃথা (পাওলি দাম) একে অপরকে জড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায়, দৃশ্যটিতে শব্দপূর্ণতা ও শব্দশূন্যতার যে খেলা তা বহুদিন মনে রাখবে বাংলা ছবির দর্শকের। ছবিতে মিউজিক দিয়েছে অনুপম রায়। বাংলা ছবিতে অনুপমের করা অন্যতম সেরা কম্পোজিশন কন্ঠের গানগুলো। যা দর্শকদের কাছে আরো জীবন্ত করে তুলেছে ছবিটিকে।

ছবির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ স্পিচ থেরাপিস্ট রোমিলা চরিত্রটি। চরিত্রটি কখনও ওয়ার্কিং পার্সোনালিটি, কখনো মা আবার কখনো নিছকই একজন বন্ধু। বিজয়া, বিসর্জন কিংবা রাজকাহিনির জয়া এহসান মুগ্ধ করেছিল আপামর বাঙালিকে। তবে এত ভিন্ন স্তরে টলিউড ইন্ডাস্ট্রি প্রথমবার পেল জয়াকে। স্ক্রিনে যখনই রোমিলা চরিত্রের দেখা মিলেছে তখনই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে চরিত্রটি, যাকে বলে শো স্টিলার।

অ্যাক্সিডেন্ট, রামধনু, পোস্ত, হামির মত কন্ঠ-ও নিখাদ একটি পারিবারিক ছবি। শুধু বলেই নয়, যে কোন ধারার বাংলা ছবির দর্শকের কাছে কন্ঠ একটি মাস্ট ওয়াচ ছবি। যথাযথ মূল্যায়ন করলে তাই ৫-র নিরিখে ৩.৫ পাবেই কন্ঠ ছবিটি।

বিশ্ব ফুটবল দিবস!

বিপ্লব হয় বন্দুক-বেয়নেটে, বিপ্লব হয় তুলি-কলমে, বিপ্লব হয় সবুজ গালিচায়। পরাধীন দেশের গ্লানি মোছাতে বল পায়ে দল গড়েন নগেন্দ্রপ্রসাদ। আবার কোনো এক রাজপুত্রের জাদুমন্ত্রে শেষ হয় সাম্বা ঝড়ের একছত্র আধিপত্য। অ্যালবিসেলেস্তে আর সেলেকাওয়ে আড়াআড়ি ভাগ হয় সমগ্র ফুটবল বিশ্ব। স্বজন হারানোর চিহ্ন নিয়ে কেউ হাজির হয় প্রিয়দলের খেলায়, আবার কেউ মাঠেঘাটে পৌঁছে যায় ফুটবল ফিল্ম দেখানোর ইচ্ছায়।

এহেন ফুটবলের নামে যে আস্ত একটা দিন বরাদ্দ সে খবর জানেন কি! ইউনাইটেড নেশনস এর পক্ষ থেকে ১০ ই ডিসেম্বর দিনটিকে আন্তর্জাতিক বিশ্ব ফুটবল দিবস হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সকল ফুটবলপ্রেমীর মাঝে একতা সৃষ্টির জন্য বিশ্ব ফুটবল দিবস পালিত হয়।

জনপ্রিয় এই খেলার একটি প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। আনুমানিক ২০০০ বছর পূর্বে চিনা হান সাম্রাজ্যের রেকর্ডে এই খেলার উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রায় একই ধরনের এক খেলার কথা জানা যায় ৬০০ শতকের জাপানে। তবে আধুনিক ফুটবলের জন্ম হয় ইংল্যান্ডে। তবে সে খেলার ইতিহাস বড়ই ভয়ানক। সেকালের ইংল্যান্ডে বসবাসকারী স্যাক্সনরা দুদলে বিভক্ত হয়ে যুদ্ধের ময়দানে আহত শত্রুর মাথা নিয়ে খেলত। ১৪০০ শতকে নিষিদ্ধ হয় সেই ভয়াবহ খেলা। “স্পোর্টস এন্ড আদার পেস্টাইমস নামে” জোসেফ স্ট্রুটের বই থেকে জানা যায় ১৮০১ খ্রীস্টাব্দে প্রকাশিত রুলগুলিই আধুনিক ফুটবলে ব্যবহৃত হয়। ১৮৬৩ সালে নিয়মগুলি সরকারি ভাবে গৃহীত হয়।

বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে ভারতের স্থান ১০৬, তবুও কলকাতা ডার্বি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং বহুল জনপ্রিয় এক মহারণ। কর্পোরেট কালচারে বুঁদ হয়ে থাকার দিনেও কাতারে কাতারে মানুষের উপস্থিতি দেখা যায় ভারতের ক্লাব ফুটবলের সেরা দ্বৈরথে। করোনা কালে সুদূর ফতোর্দায় খেলা পড়লেও কলকাতার বুকে ফ্যান ক্লাবগুলির আয়োজন করা স্ক্রিনিংয়ে মানুষের ভীড় চোখে পড়বার মতন। লেসলি ক্লডিয়াস থেকে গোষ্ঠ গোপাল সরণী, কলকাতা মাঠ যেন ছোট গল্প। হইয়াও হইলো না শেষ। বিপণন, কর্পোরেটিজমের যুগেও খেলাপাগল জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ কলকাতা ময়দান। নগেন্দ্রপ্রসাদের শোভাবাজার থেকে, শিবদাস বিজয়দাস ভাদুড়ীর মোহনবাগান, স্বাধীনতার সোনালী দিন থেকে পরিবর্তনের কাল আজও সব খেলার সেরা বাঙালির সেই ফুটবলই।

‘স্বদেশে’র ১৭ বছর; উঠে এল নানান অজানা কাহিনী

‘ইয়ে যো দেশ হ্যায় তেরা, স্বদেশ হ্যায় তেরা”! ১৭ বছর পেরিয়েও সেই বন্ধন এড়ানোর সাধ্য নেই সিনেপ্রেমীদের। স্বদেশে’র আবহসঙ্গীত আজও কিছু মানুষের মনে রয়ে গিয়েছে। এই ছবিটি নিয়ে একটি মজার কাহিনী বলেছেন সুরকার এ আর রহমান। তিনি বলেন, দেশপ্রেমে ভরপুর এই ছবিটি দেখে বহু মানুষ বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। বিদেশে বসতি স্থাপনকারী অনেক ভারতীয় ভারতে এসে বলেছিলেন যে তারা তাদের দেশকে আবার মহান করবে। এই ছবি এতটাই গভীর প্রভাব ফেলেছিল মানুষের হৃদয়ে।

শাহরুখ খান অভিনীত ছবি ‘স্বদেশ’ মুক্তি পায় ১৭ ডিসেম্বর ২০০৪-এ। এই ছবিতে দেশপ্রেমের যে বর্ণনা তা ২০২১ এ দাড়িয়ে বেশ ঈর্ষান্বিত করবে বর্তমানের ছবি নির্মাতাদের। দেশভক্তির ভাবনার উপস্থাপনায় এই সময়ের ছবিগুলির ‘লাউড অ্যাপ্রোচ’ চোখে লাগে দর্শকদের। সেদিক থেকে দেখলে এই ছবি নিঃসন্দেহে এক ‘বেঞ্চমার্ক’। সুপারহিট ছবি ‘লাগান’-এর পর আশুতোষ গোয়ারেকর এই ছবির কাজে হাত দেন। এই ছবিতে অভিনয় করতে প্রথমে রাজি হননি শাহরুখ। ‘দিল সে’র মত ছবি বক্স অফিসে সাফল্যের মুখ না দেখাই হয়ত এর কারণ। ছবির গল্প ভাল লাগলেও, আশুতোষকে না বলে দেন তিনি। আশুতোষের প্রচেষ্টায় ছবিটি করতে রাজি হন শেষমেশ। নতুন বিষয় নিয়ে একটি ছবি তৈরি করেছিলেন, যেখানে শাহরুখের সঙ্গে গায়ত্রী যোশীকে নেওয়া হয়েছিল। শাহরুখের এই অভিনেত্রীর কাজ মানুষ পছন্দ করলেও চলচ্চিত্র থেকে বর্তমানে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

১৭ বছর আগে, আশুতোষ গোয়ারিকর যখন নাসার মতো একটি বিষয় নিয়ে ‘স্বদেশ’ ছবি বানানোর কথা ভেবেছিলেন, তখন ছবির গল্প শোনার পর শাহরুখ বলেন, ছবিটি ভালো হলেও চলবে না। কারণ এই ছবির বিষয়বস্তু দুর্দান্ত ছিল কিন্তু হিট হওয়ার কোনো ফর্মুলা এতে ছিল না। বাস্তবেও ঠিক তাই ঘটেছিল। কিন্তু পরে ছবিটি কাল্ট ক্লাসিক হয়ে যায়। একই সময়ে, এই ছবিটি করার পরে, এটি শাহরুখ খানের হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় অভিনেতা নিজেই কথাগুলি জানিয়েছেন।

৪১-এ পা অভিনেতা নিশোর।

সখী নাটক কারে কয়? সে কি শুধুই নিশোময়! বর্তমান প্রজন্মের বাংলাদেশী নাট্যপ্রমীদের মনে এ প্রশ্ন জাগতেই পারে। কলকাতা নাট্যজগৎে অনির্বাণ ভট্টাচার্য, কৌশিক সেন, দেবশঙ্কর হালদারের মত শিল্পীরা যতটা জনপ্রিয়, ওপার বাংলায় ঠিক ততটাই জনপ্রিয় আফরান নিশো, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, মেজজাবিনরা।

বুধবার ৪১ বছরে পা রাখলেন অভিনেতা নিশো। ফেসবুক থেকে ইনস্টা, বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শুভেচ্ছার বন্যা বইয়ে দিলেন নিশোর অনুরাগীরা। তবে এখানেই থেমে থাকেননি তারা। ঢাকা শহরের নিশোর ভক্তরা তার জন্মদিনের আয়োজন করলেন। কেক কেটে প্রিয় অভিনেতার জন্মদিন পালন করলেন তারা। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি তানজানি তিশা, মেহজাবিন চৌধুরীর মত সহ অভিনেতারা। ফেসবুকে তিশা লিখছেন “হ্যাপি বার্থডে টু দ্য মোস্ট ট্যালেন্টেড অ্যাক্টর..”

ইউটিউব সার্চে রম-কম থেকে আউট এন্ড আউট থ্রিলার, সব জঁর এর নাটকই খুঁজে পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক কালে মেহজাবিন চৌধুরীর সাথে তার অভিনয় করা পুনর্জন্ম নাটকটি দর্শকমহলে বিশেষ প্রশংসা পেয়েছিল। ক্যানাবালিজম নিয়ে তৈরি নাটকটির সিকুয়েল এও তাদের কাজ ছিল বেশ নজরকাড়া। মডেল তিন্নির জীবন নির্ভর ওয়েব সিরিজ মরীচিকাও চর্চার শিরোনামে উঠে এসেছিল। বাংলাদেশের ওটিটি প্লাটফর্ম চরকিতে স্ট্রিম হওয়া সিরিজটিতে নিশো ছাড়াও ছিলেন মাহিয়া মাহি, জোভান, সিয়াম আহমেদ এর মতন জনপ্রিয় বাংলাদেশী অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।

মেহজাবিন চৌধুরীর সাথে তার কেমিস্ট্রি নাট্যপ্রমীদের মধ্যে খুবই আলোচিত বিষয়। ‘চিরকালের আজ’ নাটকে তাদের সম্পর্কের কঠিন মুহুর্তগুলি যেভাবে পর্দায় ফুটে ওঠে তাতে নাটক শেষে একরাশ মনখারাপ দানা বাঁধে দর্শকের মনে। আবার ‘শুষ্কং কাষ্ঠং’ নাটকে দাম্পত্যকলহের মুহুর্ত গুলোয় যেভাবে হালকা মেজাজে সম্পর্কের সারসত্য তুলে ধরে তা তারিফ করবার মতন। এছাড়াও নিশোর উল্লেখযোগ্য কাজগুলি হল – ‘টম এন্ড জেরী’, ‘নৈব নৈব চ’, ‘শুষ্কং কাষ্ঠং’ ‘চোর’, ‘ফটো ফ্রেম’, ‘হ্যালো শুনছেন’, ‘হাড় কিপ্টে’, ‘গ্রামের প্রথম গ্র্যাজুয়েট’, এর মতো অনেক কিছু।