
ভালবাসা সংজ্ঞায়িত করা বোধহয় একজন ভালো স্টোরিটেলারের পক্ষেই সম্ভব। “রেনকোট”, মুভি অফ আ লাইফটাইম! চরিত্র চিত্রণ থেকে, সংলাপের বয়ন সবেতেই নিখুঁত তুলির টান। এ যেন ফিল্ম নয়, জীবনের ক্যানভাসে সাদাকালো তুলির শেড। প্রতিটি অভিনেতা তাদের চরিত্রগুলি জীবন্ত করে তুলেছে ক্যামেরার সামনে। কাহিনীর বয়ন অনবদ্য এককথায়! সিনেমার প্রতিটি বাঁকে কাহিনীতে যে মোচড় মারা হয়েছে যা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করার মত। কখনো সো কল্ড বা প্রেডিক্টেবল মনে করার সুযোগ দেননি নির্মাতারা। ঐশ্বর্য রাই প্রতিটি সিন-এ এত সাবলীল আর এত স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে নিজেকে মেলে ধরেছেন অন দ্য ক্যামেরা,যে বোঝার উপায় ছিলনা যে সমগ্র বিষয়টি সেলুলয়েডে হচ্ছে না জীবন দিয়ে অনুভব করছি। তবে অজয় দেবগণ এর থেকে আরো একটু আশা ছিল, যা তিনি পূরণ করতে সক্ষম হননি। অন্যান্য অভিনেতাদের মধ্যে অন্নু কপুড় আর মৌলি গাঙ্গুলির স্ক্রিন প্রেজেন্স দেখবার মতো। সিনেমায় মিউজিকের ব্যবহার নিয়ে দুএক কথা না বললেই নয়। দেবজ্যোতি মিশ্র এর পরিচালনায় পুরো সিনেমার প্রধান ফিমেল ভোকালিস্ট শুভা মুদগল। সিনেমার অধিকাংশ গানই তার গলায় শুনতে পাবেন দর্শকরা। সবমিলিয়ে “রেনকোট” দেখার পর দিনের শেষে একটা কথা বলতেই হবে – “ইয়ে মুভি নেহি দেখা তো কেয়া দেখা সাহাব!!”

সাওয়ান আয়ে তুম না আয়ে, তুম বিন তরসে মোরা জিয়া…

ফি বছর ৩১ আগস্ট ফিরলেও তুমি যে ফিরে আসো না আর! প্রতিটা চলচ্চিত্রে এক একটা দৃশ্যে স্ক্রিনে না থেকেও ভীষণভাবে তোমার স্পর্শ পাই আজ এত বছর পরেও। আচ্ছা তুমি কি ফিরতি পথে সর্বত্যাগী বিনোদিনী নাকি ঝলমলে আলোয় অশ্রুসিক্ত দু’চোখ লুকোনো বিনোদিনী ? নাকি বর্ষাতি হাতে আধভেজা নীরু? যদিও জানি সবার মধ্যেই ভীষণভাবে তুমি বিরাজমান, তবুও বলোনা কার মধ্যে তোমায় আরও নতুন করে পাবো? সুখ দুঃখের নিবিড় মুহূর্তে তোমার সন্তানেরা এত বেশি করে প্রাসঙ্গিক যে বাঙালির প্রেম বা বিরহে তুমি ইলশে গুড়ি হয়ে উঠেছো। বৃষ্টিভেজা শ্রাবণ তাই নদী কিনারে বলে ওঠে – “পিয়া তোরা ক্যায়সা আভিমান..”