বিপ্লব হয় বন্দুক-বেয়নেটে, বিপ্লব হয় তুলি-কলমে, বিপ্লব হয় সবুজ গালিচায়। পরাধীন দেশের গ্লানি মোছাতে বল পায়ে দল গড়েন নগেন্দ্রপ্রসাদ। আবার কোনো এক রাজপুত্রের জাদুমন্ত্রে শেষ হয় সাম্বা ঝড়ের একছত্র আধিপত্য। অ্যালবিসেলেস্তে আর সেলেকাওয়ে আড়াআড়ি ভাগ হয় সমগ্র ফুটবল বিশ্ব। স্বজন হারানোর চিহ্ন নিয়ে কেউ হাজির হয় প্রিয়দলের খেলায়, আবার কেউ মাঠেঘাটে পৌঁছে যায় ফুটবল ফিল্ম দেখানোর ইচ্ছায়।

এহেন ফুটবলের নামে যে আস্ত একটা দিন বরাদ্দ সে খবর জানেন কি! ইউনাইটেড নেশনস এর পক্ষ থেকে ১০ ই ডিসেম্বর দিনটিকে আন্তর্জাতিক বিশ্ব ফুটবল দিবস হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সকল ফুটবলপ্রেমীর মাঝে একতা সৃষ্টির জন্য বিশ্ব ফুটবল দিবস পালিত হয়।

জনপ্রিয় এই খেলার একটি প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। আনুমানিক ২০০০ বছর পূর্বে চিনা হান সাম্রাজ্যের রেকর্ডে এই খেলার উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রায় একই ধরনের এক খেলার কথা জানা যায় ৬০০ শতকের জাপানে। তবে আধুনিক ফুটবলের জন্ম হয় ইংল্যান্ডে। তবে সে খেলার ইতিহাস বড়ই ভয়ানক। সেকালের ইংল্যান্ডে বসবাসকারী স্যাক্সনরা দুদলে বিভক্ত হয়ে যুদ্ধের ময়দানে আহত শত্রুর মাথা নিয়ে খেলত। ১৪০০ শতকে নিষিদ্ধ হয় সেই ভয়াবহ খেলা। “স্পোর্টস এন্ড আদার পেস্টাইমস নামে” জোসেফ স্ট্রুটের বই থেকে জানা যায় ১৮০১ খ্রীস্টাব্দে প্রকাশিত রুলগুলিই আধুনিক ফুটবলে ব্যবহৃত হয়। ১৮৬৩ সালে নিয়মগুলি সরকারি ভাবে গৃহীত হয়।

বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে ভারতের স্থান ১০৬, তবুও কলকাতা ডার্বি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং বহুল জনপ্রিয় এক মহারণ। কর্পোরেট কালচারে বুঁদ হয়ে থাকার দিনেও কাতারে কাতারে মানুষের উপস্থিতি দেখা যায় ভারতের ক্লাব ফুটবলের সেরা দ্বৈরথে। করোনা কালে সুদূর ফতোর্দায় খেলা পড়লেও কলকাতার বুকে ফ্যান ক্লাবগুলির আয়োজন করা স্ক্রিনিংয়ে মানুষের ভীড় চোখে পড়বার মতন। লেসলি ক্লডিয়াস থেকে গোষ্ঠ গোপাল সরণী, কলকাতা মাঠ যেন ছোট গল্প। হইয়াও হইলো না শেষ। বিপণন, কর্পোরেটিজমের যুগেও খেলাপাগল জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ কলকাতা ময়দান। নগেন্দ্রপ্রসাদের শোভাবাজার থেকে, শিবদাস বিজয়দাস ভাদুড়ীর মোহনবাগান, স্বাধীনতার সোনালী দিন থেকে পরিবর্তনের কাল আজও সব খেলার সেরা বাঙালির সেই ফুটবলই।