হম্ কেয়া করে

দুটো গান, সময়ের ব্যবধান ছয় দশকের, অথচ শুনতে বসলে নিমেষে শতাব্দীর সীমারেখা মুছে দেয়।

ষাটের দশকে গীতিকার সাহির লুধিয়ানভি লিখছেন,

হমে তুম বিন কোয়ি যাচতা নেহি

হম্ কেয়া করে

তুমহি কেহ দো অব অ্যায় জানে ওয়াফা

হম্ কেয়া করে

ইয়ে দিল তুম বিন কহি লগতা নেহি

হম্ কেয়া করে

ইবাদত বা বন্দনা বোঝাতে শব্দ দিয়ে কালচক্রকে যে নাগপাশে বেঁধেছিলেন কবি, সে বন্ধন ছিন্ন করা আজও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। হৃদয়ের গহীন কোণের আর্ত চিৎকার যেন মুক্তো হয়ে প্রতিটা শব্দবন্ধে পরিণত হয়েছে।

এসবের বহুকাল পরে ‘তাচ্ছিল্যের জেন জি যুগে’ দাঁড়িয়ে গীতিকার মুদাস্সার আজিজ লিখছেন,

দিল কে আগে ইয়ে আফত্ বড়ি হ্যাঁয়

খোয়াহিশে ফির ভি জিদ্ আঁড়ি হ্যাঁয়

হমসে মায়ুস হোগা জমানা

পড়্ জমানে কি কিসকো পড়ি হ্যাঁয়

যেন সময়ের নদী পেরিয়ে কোনো প্রেমিকের আর্তচিৎকার আজ আত্মগৌরবের রূপ নিয়েছে। দুনিয়াকে মধ্যমা দেখিয়ে আজ তার ইবাদত, জুনুন বা অবসেশনের আকার নিয়েছে। ভালোবাসা ও যুগের দাবি মেনেই যেন সবটা হয়েছে। কলমটা ভিন্ন হতে পারে, তবে সত্ত্বা দুটো ভীষণ ভাবে একাত্ম!

কি অদ্ভুত সমাপতন!

Leave a comment