শুভ জন্মদিন লিও!

লিওনেল মেসি হ্যাজ শেকন হ্যান্ড উইথ দ্য প্যারাডাইস,
দ্য লিটল বয় ফ্রম রোজারিও স্যান্টা ফে, হ্যাজ জাস্ট পিচড আপ ইন দ্য হেভেন,
দ্য গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম!

ছবি কথা বলে!

কাপটা হাতে তোলার আগে পিটার ড্রুরির করা এই মন্তব্য গুলো অক্ষরে অক্ষরে বিশ্বাস করি আর নাই করি, গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম মন্তব্যকে ধ্রুব সত্য মানতে পারিনা এটা ঠিক। তবে হ্যাঁ, ওয়ান অফ দ্য গ্রেটেস্টে খুব বিশ্বাস করি! আজ ট্রফিকে শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি মানলে ক্রুয়েফের মত ফুটবল দার্শনিককে ভীষণ ভাবে ছোটো করা হবে যে। তবে যে সকল সো কলড ফুটবল লাভার ২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত কিংবা ২০২১ এর আগে পর্যন্ত বারেবারে শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠির বারটাকে উঁচিয়ে ধরেছে প্রতি ছয় মাসে, তাদের জন্যে লিও ইজ ডেফিনেটলি “দ্য গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম!”

সাল ২০১৬, বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের পর কোপা ফাইনালে নামতে চলার ঠিক দুই দিন আগে মানুষটার জন্মদিন ছিল, সাধ করে জন্মদিনে লিখেছিলাম “আরও যেই কটা দিন তোমায় ওই সবুজ গালিচায় শিল্পের রঙ ছড়াতে দেখতে পারবো সেটাই পাওনা আমার মতন ফ্যানদের জন্যে”
আর সেই শুভেচ্ছা বার্তা যে দিন দুয়েকের অভিশাপের বজ্রাঘাত হয়ে নামবে তা ঘুনাক্ষরেও জানতে পারলে লিখতুম না ওসব। কোপা ফাইনালে হার আর তার “ফেক রিটায়ারমেন্ট”।
তারপর আবারও হেরেছে দেশের জার্সিতে, আশা রাখতাম না কিছু পাওয়ার, তবুও হেরে গেলে সপ্তাহ খানেক জম্বি মোডে চলে যেতাম। ভালোবাসলে এক্সপেকটেশন (ওপর ওপর না রাখতে চাইলেও) থেকেই যায় বোধহয়।

৩-৪, ২০১৮ এর পর টিমে আমূল বদল, লিও আর লিওর যুগলবন্দী শুরু আর্জেন্টিনায়। যদিও দ্য দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা ততদিনে স্কালোনির ষষ্ঠী পুজো করে দিয়েছেন। তরুন লিও(কোচ) হাল ছাড়লেন না, ডোমেস্টিক থেকে প্রচুর খেলোয়াড় তুলে আনলেন, তরুণ তুর্কিদের সাথে ভিড়িয়ে দিলেন বুড়ো ডি মারিয়া, ওটামেন্ডি আর মেসিকে। আর সেই ” ওকে দিয়ে হবেনা” স্কালোনির দল একটানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকলো। আর সেই অশ্বমেধের দৌড়ে জয় করলো কোপা আমেরিকা ২০২১ আর ফাইনালিজমা ২০২২! ভাঙল ২৯ বছরের ট্রফি না পাওয়ার খরা। মারাকানায় কেঁদে ফেললো “অপয়া, দেশের হয়ে ডেডিকেশন না থাকা, টাকার জন্যে খেলা, লিডারশিপ কোয়ালিটি না থাকা” প্লেয়ারটা। রথ দেখার (পড়ুন ট্রফিজয়) সাথে কলাবেচা (কোপা গোল্ডেন বল আর যুগ্ম ভাবে গোল্ডেন বুট)।

আত্মবিশ্বাসের চরমে থেকে হট ফেভারিট তকমা নিয়ে পা রাখল কাতারের মাটিতে। আর প্রথম ম্যাচেই অনামী সৌদির কাছে হেরে সরে গেল পায়ের তলার মাটি। বিশ্ব ফুটবলের হেডলাইন হল “হোয়্যার ইজ মেসি??”
সমর্থকরা বিভক্ত হলেন দুই দলে। একদল আবারও মন ভাঙার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আরেক দল মেসি ম্যাজিকের আশায় আবারও চাতকের মত চাওয়া শুরু করলেন। আর সেও বার্তা দিল, “এখানেই শেষ নয়, আমরা করবো জয় নিশ্চয়!” এরপর বিশ্বকাপে দুর্দান্ত রেকর্ড থাকা ওচোয়ার বিরুদ্ধে নেটে বল জড়িয়ে হুঙ্কার দিলেন “মেসি জিন্দা হ্যাঁয়” (ফিলিমের পোকা তাই এট্টু ফিউশন করলুম আর কি 🙈)

শেষ কয়েক বছরে বিশ্ব ফুটবল যেন এক অন্য লিওকে দেখছিল, সে “হিজো দে পুটা” কান্ড হোক কি ফুট খানেক লম্বা প্লেয়ার এর সাথে লড়তে লেগে পড়া! তবে সে বোধহয় শুধু স্যাকরার ঠুক ঠাক ছিল, আসল ঘা পড়ল বিশ্বকাপে। রেফারিং নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা থেকে শুরু করে ভান গলের সাথে ফান করা সবটাই দেখল ফুটবল বিশ্ব। ক্যায়ামত সে ক্যায়ামত তক এর চকো বয় যেন হুট করে জঞ্জির এর অ্যাংরি ইয়ং ম্যান হয়ে উঠলো!

Champions of the World!

এরপর পোলিশ আত্মসমর্পণ, ডাচদের বিরুদ্ধে কুং ফু পান্ডা গেম আর ততধিক “ঝাঁটু” রেফারিং (সি আর কৃষ্ণও এত গালি খান না ভারতীয় ফুটবলে), ক্রোয়েশিয়াকে নাটমেগ, আর সব শেষে মাইটি ফ্রেঞ্চদের মুখোমুখি হওয়া, আর তার আগেই ভাইরাল এমবাপ্পের লাতিন আমেরিকান ফুটবল সম্পর্কে মাঠ তাঁতানো ডায়লগ। তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে গেল নীল সাদা বাহিনী। ডি মারিয়ার ৩০ মিনিটে গোলের পর ৭০ মিনিট পর্যন্ত ফ্রান্স তো থাকলো মাঠে, খুঁজে পাওয়া গেলোনা “মাইটি” শব্দের অর্থ! একটা ছোট্ট ভুল আর জাত চিনিয়ে দিয়ে গেল দেশঁ’র ছেলেরা। ত্রাহিত্রাহি রব উঠলো আর্জেন্টাইন ডিফেন্সে, সিঁদুরে মেঘ দেখল নীল সাদা সমর্থকরা। আর সেই সাথেই গোওওওওওওওল! এমবাপ্পে যেন মুহুর্তে নাড়িয়ে দিল লাতিন আমেরিকার ফুটবলের ভিতকে। কি চমৎকার তাঁর গতি আর ফুটবল মস্তিস্ক। অতি কট্টর অ্য্যালবিসেলেস্তেও একবাক্যে তা স্বীকার করবে। সে যাত্রায় এক্সট্রা টাইমে ম্যাচ নিয়ে গিয়ে হাঁফ ছাড়লো মোলিনা, রোমেরো, ডি পলরা। বিরতির পরে আবারও ম্যাচে আগুয়ান নীল সাদা বাহিনী, সৌজন্যে পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চির মানুষটা। তবে সেই এগিয়ে থাকাও “পল দো পল কা সায়ার হু” টাইপ ভাইব দিচ্ছিলো। আর হলও ঠিক তাই। এমবাপ্পের ঐতিহাসিক ওয়ার্ল্ডকাপ ফাইনাল হ্যাটট্রিক। ভাঙল বহু বছরের ব্রিটিশ রেকর্ড। ডু অর ডাই গেম যে কি হতে পারে সেদিন লিওকে না দেখলেই ঠাওর করা যাচ্ছিল। আপাত সুযোগ সন্ধানী প্লেয়ার, গোল ঠেকাতে ডি বক্সের কাছে এসে হেডে বল ক্লিয়ার করছে! সত্য সেলুকাস, কি বিচিত্র এই মানুষ, কি মাধুর্য এই খেলার…
ম্যাচ গড়ালো পেনাল্টি শ্যুট আউটে। আর তারপর তিনকাঠির নীচে ডিবুর (এমিলিয়ানো মার্টিনেজ) লীলাখেলা! ৪-২ এ বিশ্বজয় আর পিটার ড্রুরির সেই গগন ভেদী ধারাভাষ্য গুঞ্জরিত হল লুসেইলের প্রতিটি কোনায়। বিশ্বজয়ের মুকুট, কাতারি আলখাল্লা (সেন্টি হবেন না প্লিজ) আর তার সাথে দ্বিতীয় বারের জন্যে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের শিরোপা জেতা।

Conquering Rival Den

এত কিছুর পরও মানুষের চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই! টক্সিসিটি থেকে দূরে থাকতে ইন্টার মায়ামি বেছে নেওয়াকে যারা তার বার্সা প্রেম নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেলো। ব্লগ্রানা জার্সিতে হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা, কোপা ডেল রে, ক্লাব ওয়ার্ল্ডকাপ জয়ের পরও তাদের জন্যে “হি ইজ আ গোল্ড ডিগার”। আর খেলোয়াড়ি জীবন ও ব্যাক্তিগত জীবনের এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে লিও আপনার এই মন্তব্যে বিনাবাক্যে একশো বার শিলমোহর দিতে চাইবে। কারণ আপনার মতন এলিতেলিকে নিজের ওই জার্সির প্রতি কমিটমেন্ট বোঝানোর দায় সত্যিই তাঁর নেই। বিশ্ব ফুটবলকে যা দিয়েছে একটা জীবন ধরে তার হাইলাইটস দেখেই অফিসের ক্লান্তি, বসের ঝাঁঝাঁনি, ট্রেন বাসের রোজকার কেত্তন, টক্সিক সম্পর্ক এসব কিছু থেকে দূরে থাকা যাবে। এখন সত্যি করেই “ইয়ে সব মোহমায়া হ্যাঁয়” মোডটাই জাস্টিফাইড হেটার্সদের বিরুদ্ধে। লেট দেম বার্ক, অ্যান্ড ইউ এনজয় ইওর থার্টি সিক্সথ কেক ডে।

Leave a comment