When I get older, I’ll be stronger!
ধাক্কা খাওয়াটা সাময়িক ভাবে সয়ে নেওয়ার ক্ষমতা হয়ত তৈরি হয়, আর সেটাকে যদি শক্ত (পরিণত) হওয়া বলে তবে তাই।
Destiny বা ভাবানুবাদে কপালের লিখনে না মানি, মেনেছি কোনোদিন, তবে কেন বারেবারে কাল মন্টিয়েলের শেষ শটের পর থেকেই মনে ঘুরছে সেই অমোঘ বাণী?

তবে কেন লুসেইল স্টেডিয়ামে একাধিক ম্যাচ কিংবা We are the Dreamers মহাকালের রথচক্রে শুধু আমাদের জন্যেই লিখে দেওয়া হয়েছিল বলে বারবার মনে হচ্ছে।
Alien আছে কি নেই কিংবা ভূত অতীত না অশরীরি তা যেমন অনন্তকাল ধরে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া এক তর্কের বিষয়, ঠিক তেমনি এই নিয়তির খেলা।
যে দেখেছে বা অনুভব করেছে তার কাছে ভীষণ ভাবে আছে, যে করেনি তার কাছে নেই।
এমবাপ্পে যে Post লিও-রন Era রাজ করবে তা বলাই বাহুল্য! তবে সে যুগে নরওয়ে নিবাসী হালান্ড কতটা জোর প্রতিদ্বন্দ্বী হবে তা সময় বলবে।
আপাতত আসি, নীল সাদায় মোড়া সূর্যের দেশে, যেখান পুবের সূর্যে মারাদোনার প্রতীক থাকলে গোধূলির প্রাক্কালে অনন্তকালের জন্য রোজারিওর বিপ্লবীর নাম খোদাই করা থাকল কাল রাতের পর থেকে!

যে বিপ্লবীকে শুধু দেশের হৃত গৌরব ফেরাতে লড়তে হয়নি, সীতার ন্যায় অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে বারবার দেশের মানুষের কাছে “LEO IS A LIE” কিংবা অগ্রজের কাছে “HE HAS NO PERSONALITY” শুধু একটা ভ্রম প্রমাণ দিতে হয়েছে।
যেখানে ৩০ এর কোটা পেরোলেই লাতিন আমেরিকান জায়ান্টরা “FINISH” শোনা যায়, সেখানে ৩৫ বছরের লোকটি শুধু ডি মারিয়াকে বল Distribute, বা পেনাল্টিতে গোল করেই ক্ষান্ত থাকতে হয়নি, গোল রুখতে কর্ণারের বিনিময়ে দলকে বাঁচাতে নেমেও আসতে হয়েছে। শুধু পেনাল্টিতে গোল দিয়েই যে কাপ ঘরে আসেনা সে প্রমান ডাচ ম্যাচে মলিনাকে থ্রু বা অজিদের বিরুদ্ধে রোমহর্ষক দৌড়। যাহোক, দিনশেষে আজও মানি, ট্রফি-ই শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি নয়। ক্রুয়েফ বা জিকোর মত কিংবদন্তীরা তাই সেরা ছিলেন, আছেন আর থাকবেনও।
চক্রবৎ পরিবর্তন্তে দুঃখানি চ সুখানি চ
বছর খানেক আগে “জীবনে সব দেখেছি” hook line দিয়ে গায়ক শিলাজিৎের একটা লেখা পড়েছিলাম, সেটার সুরেই বলি, অ্যালবিসেলেস্তে জীবনে সব দেখেছি, ২০০৫ Confederation Cup ফাইনালে সেলেকাওদের কাছে ৪-১ হার দেখেছি, অমন সোনা ছেলেদের দল নিয়েও ক্লোজে, ফ্রিংসদের জার্মানির কাছে ২০০৬ বিশ্বকাপ হার দেখেছি, রোমান দিয়েগো রেশারেশিতে ২০১০ Humiliation দেখেছি, দেখেছি মৃত প্রায় শরীরে Golden Ball আনতে যাওয়া আর প্রেমিকার অন্যের ঘরে যাওয়ার মত নজরে ফ্যালফ্যাল করে সোনালী ট্রফির দিকে চেয়ে থাকা দেখেছি, দেখেছি “FAKE RETIREMENT”, দেখেছি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৮৫০ মিটার উচ্চতায় DO OR DIE ম্যাচে ইকুয়েডরকে হারিয়ে দেশকে বিশ্ব ফুটবলের মহামঞ্চে নিয়ে যেতে।

আবার, পরপর দুই বছরে ৩টে আন্তর্জাতিক ট্রফি ঘরে তুলতেও দেখেছি।
ট্রফিও যদি ” শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি” হয়, তবে লিওর ঘরে সে ধনও আছে।
দিনশেষে চারটে ফাইনালে গোল করে, ডি মারিয়া আবারও একবার জানান দিয়ে গেল, নামে নয় কামেও সে যথার্থই ANGEL, কিংবা, লো সেলসোর বদলি ম্যাক অ্যালেস্টার, বা প্রথম ম্যাচের পর ঘুরে দাঁড়ানো “বডি গার্ড” ডি পল বা এমির ১১৮ মিনিটে SAVE OF THE CENTURY সবটা, সেই কালের লিখনেই যেন শিলমোহর দিয়ে যায়।






ভালো থাকুক রূপকথারা, ভালো থাকুক রাজার সৈন্যরা, ভালো থাকুক নিন্দুকেরাও, উনকে বিনা ইয়ে গেম অধুরা রহে যায়েগা না! 💙🤍