হাতে হাত ধরে, মিলি একসাথে আমরা বাঁচাব এ মহাদেশ!

বছর জুড়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দলে খেলে বেরোলেও, দেশের রঙে সব এক!
শুধু দেশ বা রাষ্ট্রের গন্ডিতে বাঁধলে চরম ভুল করব হয়ত।
নইলে প্রতিপক্ষ দর্শকই বা কেন তাদের জাতীয় পতাকা বাড়িয়ে দেবেন এভাবে।
মাঠ জুড়ে কান্নাকাটি, চাপানউতোর; দু’পক্ষেই তাই।
দাঁতে দাঁত চেপে বসে আমরা, আপামর ফুটবল প্রেমী।
খেলা পাগলরা জুনিয়র থেকে হিউজ কিংবা হালফিলের রঞ্জির ঘটনা সব প্রত্যক্ষ করেছে।
দলের নেতা দুহাতে আগলাচ্ছেন সবটা; একদিকে দল, অন্যদিকে সহযোদ্ধার স্পেশাল ওয়ানকে।
বাড়তে থাকে হৃৎকম্পন..
ঠিক সে মুহূর্তে একটা খানিক স্বস্তির ছবি, একটা দুটো আপডেট, একটু হলেও যেন ধড়ে প্রাণ আসা।
মাঠে চ্যান্ট শুরু, একদেশ ক্রিশ্চিয়ান বললে আরেক দেশ এরিকসন বলছে।
হাজারও অতিমারী, হাজারও অবক্ষয়ের মাঝে এ প্রেমের গল্প চলুক, অক্ষয় হোক মানবপ্রেম!

আহা জীবন, আহারে জীবন!

ঝুপ করে পর্দা পড়া অসমাপ্ত ছাত্রজীবন! মাস দুয়েকের মধ্যে সব শেষ হবে ভাবতে থাকা কিছু মানুষের কাছে (শুধু আমি বললে স্বার্থপরতা উঁকি দিতে পারে) হঠাৎ করে তিন সপ্তাহের লকডাউন তিন মাস হল, দেন অ্যান্ড অন অ্যান্ড অন..

বহু মানুষের জন্যে চরম সর্বনাশ বয়ে আনলেও আমার জন্যে একভাবে ভাবলে এই লকডাউন পর্বটা বেশ আশীর্বাদ ছিল বারেবারে মনে হয়েছে। চুটিয়ে কাজ করেছি, ভুল-ঠিক যাহোক, করার চেষ্টা করেছি, শেখার চেষ্টা করেছি। আজও করছি। নিজেকে নতুন করে খোঁজার মোক্ষম সময় ছিল বলা যায়।

যাহোক সেসব চলতে থাকবে, এখন এত ভণিতার ব্যাপারে এট্টু খোলসা করি। আজ সারাদিন অমনভাবে হাওয়া বইছিল। ল্যাপটপ আর বই নিয়ে বদ্ধ ঘরে থাকা আমি সন্ধ্যেরাতে খেয়াল করি সেটা, তাও যখন সে হাওয়া জানলায় কড়া নাড়লে। আজকাল, সো কলড্ বিয়িং সাকসেস*ফুল* আমার আর ওসব “কাব্যিটা ঠিক আসেনা”! কিন্তু, স্মৃতি যে বরাবর বেইমান, রাত বাড়তেই শীতের আমেজে বৃষ্টির নাচন। তবে এবার আর খিড়কি নয়, ভাঙল স্মৃতির সিংহদুয়ার। হুড়মুর করে এসে পড়ল, বিদ্যা ভবন, ক্লাসরুম, প্রিয় ব্যালকনি আর আড্ডার স্মোকিং জোন।

“কোপাই না খোয়াই?
প্রান্তিক চল!”

শ্যামবাটি মোড়ে পৌঁছে চলন্ত সাইকেলের সে কথোপকথন আজ শুধুই, আহা জীবন! আহারে জীবন!

আর আমি?
আপাতত, বৃষ্টি, ঠান্ডা হাওয়া, স্মৃতিমেদুর ঝাপসা আলো আর,

যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে…

বিজয়গাথা

‘যব যরুরত পারেগী তব ঘর্ সে বুলায়েঙ্গে!”

আজ থেকে প্রায় এক মাস আগেও কে বলতে পারত যে এই উক্তিটাই এমন রূপকথার বাস্তবে পরিণত হবে।
টিম ৩৬ এ প্যাভিলিয়নে, ট্রফি রিটেন করতে এসে প্রথম ম্যাচে অমন হিউমিলিয়েশন (স্কোর কার্ড দেখলে ইন্টারস্কুল গেম এর স্কোর ছাড়া কিচ্ছু মনে হবেনা) শামি চোট নিয়ে সিরিজের বাইরে।
কথা উঠতে থাকলো প্লেয়ারদের ক্যাপাবিলিটি, রেসপন্সিবিলিটি নিয়ে, বারে বারে ফিরে আসতে থাকলো দ্রাবিড়, লক্ষনদের নাম।
দেশে ফিরলেন ক্যাপ্টেন!

নতুন ম্যাচ, অধিনায়কের ব্যাটন হাতে জিঙ্কস। গিল আর সিরাজ ভরসা যোগালেন ডেবিউটান্ট হিসেবে। কাম কম্পোজড্ সেঞ্চুরী এল অধিনায়কের ব্যাট থেকে। যাদুদন্ডের ব্যবহারে বোলিং লাইন আপ সহ পুরো টিমের মাইন্ড সেটআপ যেন কেউ বদলে দিয়েছে। ম্যাচ জিতে সিরিজে কামব্যাক, তবে সিরিজের বাইরে আরেক সিনিয়র উমেশ যাদব।

তৃতীয় ম্যাচে ” ভারত শুধু টি টোয়েন্টিই খেলতে পারে” তকমা ঘুচলো হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট আর পিঠে ব্যাথা নিয়ে হনুমা-অশ্বিনের ২৬২ বল খেলে যাওয়া আর কনুইয়ে চোট নিয়ে পান্থের অ্যাটাকিং ৯০, আর জাদেজার অলরাউন্ড পারফরমেন্স। কথা উঠলো – “Bihari (হ্যাঁ, মাননীয় তা-ই বলেছিলেন) murdered the game”

চতুর্থ ম্যাচ গাবায়, ‘৪৭ থেকে ভারত জেতেনি কোনোদিন, অস্ট্রেলিয়া শেষ কবে হেরেছিল জানতে হবে গুগল করতে হয়। সাথে স্কোয়াড দেখলে মিনি হাসপাতাল ছাড়া কিচ্ছু মনে হবেনা। জাদেজা, অশ্বিন, হনুমা, বুমরাহ চোট নিয়ে বেরোলেন।
দুজন ডেবিউটান্ট, বোলিং লাইন আপে দুজন সিনিয়রের টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা হল মাত্র এক ম্যাচের।

অতি বড় পজিটিভ ক্রিকেট বিজ্ঞও ওই অবস্থায়, “জাস্ট গো ফর দ্য গেম” ছাড়া কিছু বলার কথা ভাবেননি বোধহয়। সেখানে ড্র নয়, বৃষ্টি ভেজা আন ইভেন বাউন্সের সামনে ট্রফি রিটেন নয়, জিতে আরো একবার বলতে বাধ্য করে – “ইন্ডিয়ান ক্রিকেট ইজ ইন সেফ হ্যান্ডস!”

নীরব পুজারার “স্লো” পুজারার কন্ট্রিবিউশান আর ক্যারেক্টর বদলে দেওয়া টিম লিডার, কুইন্সল্যান্ড বিতর্ক, টিম পেন আর গার্ড মার্ক মপারকে ভুললে ক্রিকেট দেবতার অভিশাপে মরা অবশ্যম্ভাবী!

অ্যান্ড ইনডিড, দিস ইজ দি মোস্ট এক্সাইটেড ফরম্যাট অফ দি গেম।

উদয়াস্ত

জীবন বারেবারে প্রমাণ দিয়ে যায় সে বিনি সুতোয় গাথা কয়েকটা মুহূর্তের মালা ছাড়া আর কিচ্ছু না।
আর সিলভার স্ক্রিনের বেসিক প্লট গুলোর মতো তারও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপে ফিরে-ফিরে আসাই ধর্ম! শুধু দরকার একটু বিচক্ষণ ক্ষমতার।

যেদিন প্রথমবারের জন্য বোলপুর যাচ্ছিলাম এক এমন অদ্ভুত অনুভূতি নিয়ে যাচ্ছিলাম যার সেদিনও কোনো ব্যাখ্যা ছিলনা আর আজকের অনুভূতিরও নেই। শীতের ভোর, আবছা কুয়াশা, বয়ে চলা অনুভূতির এই হাড়হিম স্রোত আর পাশের ‘আজনাবী’র বেজে চলা রেডিও।

আর আমি আজও অপেক্ষায়,

ট্রেনের, বছর শেষের…

“মাগর্ যানে দে”

“वो जो था ख्वाब सा
क्या कहें जाने दें
ये जो है कम से कम
ये रहे के जाने दें

क्यूँ ना रोक कर खुदको
एक मशवरा करलें
मगर जाने दे..”

জীবনের একটা পর্যায়ে এসে ওই চাওয়া পাওয়ার খেলায় মুঠো খুলে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়াতেই বেশি পছন্দ করে মানুষ। পাওয়ার ইচ্ছে কিঞ্চিৎ থাকলেও ওই টেনেহিঁচড়ে ভালোবাসার চেয়ে অন্তহীনের যাত্রা-ই বেশি সমীচিন মনে করে।

সব পেলে নষ্ট জীবন, জীবনের সবচেয়ে প্রিয় লাইন মনে করতে শুরু করে,
আর?

আর পাওয়া – না পাওয়া গুলো এক লহমায় গভীর খাদে ছুড়ে পালিয়ে যেতে চায়।
হিসেবের খাতায় চোখ রাখলে এই বুঝি আবার কোনো ধার-বাকি নজরে আসে আর তাতেই বাকি জীবনটা..
তার চেয়ে “মাগর্ যানে দে”

ছেঁড়া ড্রয়িং খাতা

সময়ের দশচক্রে সব ফিকে হতে বসে। মিথ্যে হয় তিনসত্যি গুলো। কর্পোরেট বা সোসাইটিকে গাল দিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলা আমার-আপনার ইমোশন গুলোই আসলে মেকি। সেটা মানতে না পারার সবচেয়ে বড় স্টেটমেন্ট – “ওসব গল্পেই হয়!” তারপর? তারপর বহু যুগের ওপারে একদিন কোন সিনেমার দুটো দৃশ্য বা উপন্যাসের একটা গোটা পর্ব যখন আপনার হৃদয়ের এপিটাফে লুকোনো ভাঙা ক্রেয়নের টানে আঁকা রঙিন স্বপ্নগুলো সামনে এনে ফেলে, তখন আপনার কাছে মূলমন্ত্র হয় – “সবই কপাল”। নচেৎ, ওসব সিনেমাতেই সম্ভব বলে খবরের কাগজে মুখ লুকোন, ইয়ে মানে ব্যার্থতা লুকোন আর কি।

বয়স, এক কুড়ি বা তার বেশিই কিছুটা হওয়ায় এটা ফিল করি যে প্যাশনটা ফলো করতে শুধু ফাটে না, বলা ভালো ফেটে চৌচির হয়ে যায়। তবু দিনের শেষে আয়নার সামনে কেত মেরে দাঁড়াতে গেলে শিরদাঁড়াটা বেশ টানটান থাকে। বস, ইটস আপটু ইউ, যে ভাঙা ক্রেয়নে আঁকা স্বপ্ন গুলো আপনার জীবনের ছায়াছবি করবেন না দিনের শেষে অডি আর বিএমডব্লিউ হাঁকিয়ে খবরের কাগজে মুখ লুকোবেন। ভালোবেসে যার হাতটা ধরেছেন, সেটা শক্ত করে ধরে রাখুন, লোকে কি বলবে সেটা ভাবতে বসলে, জীবনের প্রিয় গান – “সব পেলে নষ্ট জীবন” হয়ে যাবে। ম্যাপল আর বুনো ফুলের আদর চিরন্তন, রাঙতা কাগজটা কাঁচের বাক্সেই ভালো লাগে। আমিতো প্রথমটায় বিশ্বাসী, দেখা যাক এই ছায়াছবি ডিডিএলজে হয় না রদ্দি মার্কা ডেইলি সোপ…

ক্রেয়নে – Sreyashi Paul

বিশের বরষ

এ এক অদ্ভুত সময়! স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে এসেছি প্রায় বছর ছয়। এই বিশের বরষ যতই বাড়ে ম্যাচুরিটি নামক শব্দটাও ভীষণ পেয়ে বসে সবটাতে। এটা কোরোনা ওটা কোরোনা কেউ বলেনা আজ, নিজেরই একটা সত্বা বরং সবসময় বলে ওঠে – “নাঃ এ বয়সে আর তোকে ওসব মানায় না”। বড় হবার নামে নিজের মনটাকে বুড়ো করতে লেগে পড়ি আমরা, যে যত সংযত সে তত বেশী ম্যাচিওর।

আর এসবের মাঝেই হঠাৎ একদিন বৃষ্টি ভেজা দুপুর গুলো আসে কিংবা আসে কিছু সিনেমা, বলে যায় খুব খুব চেনা গল্পগুলো। যা জাস্ট এক পলকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই চেনা আমিটাতে। আর ওসব সিউডো ম্যাচিওরিটি ঝেড়ে ফেলে মুহূর্তে আমি যেন স্কুলের ক্যাবলা আমিটাতে ফিরে যাই। অকারণ হরষে ক্ষণিকের জন্যই সই, তখন ওই বোকামি আমায় ভীষণ ভীষণ মানায়। হারিয়ে যাওয়া আমার এফএম বা ওয়েব মিউজিকের দুনিয়ায় ভেসে বেড়াতে ইচ্ছে করে আর ইচ্ছে করে যে মানুষগুলোকে জড়িয়ে সেই বেলাগুলো কেটেছিল তাদের হাত ধরে আবার হারাতে আলবেলা বিকেলের ১১ টাকার এসএমএস প্যাক-এ। তাল নবমীর গল্প কিংবা হগওয়ার্টসে ফেরার এই ইচ্ছের মাঝেই হঠাৎ বেজে ওঠে – ” আজও আছে গোপন, ফেরারী মন..”

আর তারপর?

নতুন অ্যাসাইনমেন্টের ফিরিস্তি মেটাতে কিবোর্ডের টকাটক শব্দ, আর নাহয় – লাইট ক্যামেরা অ্যান্ড অ্যাকশন!

A research on informalisation of Indian economy

India is trying to give attention to it’s backbone in the genre of economy. In Indian, informal sector such as agriculture, mining, real estate, transport, household etc plays a major role in terms of growth of the country. According to the Economic Survey of 2018-19, approximately 93% of the total workforce is informal, which is neither monitored nor taxed by government.

National Statistical Commission (NSC), 2012, says the share of the informal workforce is about 50% of the national product. According to The Ministry of Labour and Employment (2015), 82% of informal sector employees were working in agricultural section (minus crop and animal husbandry). Others in informal sector had no written job contract, 77.3% got no paid leave and 69% were not eligible for any social security benefits.

UGC-MRP (University Grants Commission- Major Research Project) is conducting a research for the betterment this highly neglected part of Indian economy. The research is been associated jointly by UGC and Visva Bharati’s chair professor Pranab Kumar Chattopadhyay. Through this research, they plan to understand the actual cause behind the informalisation of firms and other business entities. Also they want to know how the policies should be oriented and formulated for the smooth formalization of Informal sector. On the urban informal sector enterprises in selected towns of West Bengal such as Kalyani, Bolpur, Berhampore, and Durgapur the study is getting done.

আসামের পথে (২)

রাত্রির নিস্তব্ধতার বুকে শব্দবাণ নিক্ষেপ করে চলেছে আমাদের রেলগাড়ি। শব্দের সাথে তাল মিলিয়ে দুলে চলেছি আমরাও। আশ্বিনের শেষের কথা জানান দিচ্ছে আধখোলা জানালা গুলো। নিঃশব্দ হেমন্তের রাতে ভ্রমণ পিপাসু মনকে বোকা জানিয়ে ঘুমোনোর বৃথা চেষ্টা করছি, ঠিক এমন সময়ে কামড়ার কোনো কোণ থেকে ভেসে এল – ” এক আজনাবী সা এহসাস দিল কো সাতায়ে, শায়াদ ইয়েহি তো পেয়ার হ্যায়”..
হঠাৎ এক পলকে যেন কে বলে উঠল – “বৃথা এ সাধনা ধীমান!!!”

আসামের পথে

ব্যস্ত কোলাহল মুখর জীবন থেকে একছুটে পালাবার ঠিকানা হিসেবে সবসময় পাহাড়ই বেছে নিয়েছি। এবারো তাই একটু আলাদাভাবে ক’টা দিন কাটাতে ছুটে চলেছি পাহাড়িয়া সুরের টানে। গোধুলির কিঞ্চিৎ লাল আলোয় চিবুক ছুঁয়ে আমাদের ট্রেন চলেছে গন্তব্যের দিকে। অসম বা শিলং এর পাহাড় না জানি কত নতুন পুরাতনের ডালি সাজিয়ে অপেক্ষা করছে আমার জন্যে। তবে এবারের সফর সঙ্গী এক নতুন দল। যে নতুন ভুলিয়েছে পুরাতনের বিচ্ছেদ। এ সফর নিজেকে আরও একবার জানতে, কাঙ্ক্ষিত দূরত্ব অতিক্রম করতে কতটা সফল তা জানতে। এ সফর শিশির আর সবুজে বিলীন হবার সফর, ভাললাগার মুহুর্তে ভালবাসার রং মেশানোর সফর..